সৈয়দ আহমদ বেরেলবী কে ছিলেন?

সৈয়দ আহমদ বেরেলভী কে ছিলেন কী ছিলেন?
– আবছার তৈয়বী
ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মীয় আকিদা ও তরীকত চর্চার ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত নাম কোনটি? আমার বিজ্ঞ পাঠক/পাঠিকা ও বন্ধুগণ কী বলবেন- তা আমি জানি না। তবে আমার মনে হয় সে নামটি সৈয়দ আহমদ বেরেলভী সাহেবের দখলে। তাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অঙ্গনে গড়ে ওঠেছে বিরাট মতানৈক্য। আকিদার ব্যাপার কেউ কাউরে ছেড়ে দিতে রাজি না। তার অনুসারীদের মধ্যে অনেক পীর-ফকির, দরবার ও সিলসিলা রয়েছে- যাঁরা গর্বভরে শুধু তার নামটিই উচ্চারণ করেন না- বরং তাকে ‘আমিরুল মুমিনীন’ খেতাবে ভুষিত করেন। ‘আমিরুল মুমিনীন’ যেন তেন কোন খেতাব নয়; বরং ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান ও ইসলামী বাহিনীর সর্বাধিনায়ক তথা ‘খলিফা’র খেতাব। আপনারা বর্তমানে বিভিন্ন আঁতেল পীরের ক্ষেত্রে সাড়ে তিন মাইল লম্বা যে খেতাবগুলো দেখছেন- তার একটিও এই ‘আমিরুল মু’মিনীন’ খেতাবটিকে ডিঙাতে পারে না।
বর্তমান বাংলাদেশে জনাব সৈয়দ আহমদ বেরলভীর অনুসারীরা দু’ধারা বিভক্ত। ১. ওহাবী ও ২. সুন্নী। আবার অনেক ওহাবী- যারা তরিকত মানেন, তাদের কিছু কিছু সিলসিলায় ‘সৈয়দ’ সাহেবের অস্তিত্ব নেই। কিছু কিছু সুন্নী সিলসিলায় আবার সৈয়দ সাহেবের শুধু অস্তিত্ব নয়, বরং তার নামটি তাঁদের সিলসিলায় ‘চন্দ্র সূর্যের মতো প্রোজ্জল’। তাঁরা সৈয়দ সাহেবের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধায় এতোই নিমগ্ন যে, দুনিয়ার সকল কিছু ছাড়তে পারে, মাগার সৈয়দ সাহেবের ‘রশি’ ছেড়ে দিতে রাজি না।
আমার সম্মানিত পাঠক-পাঠিকাদের বলে রাখি- ‘সৈয়দ সাহেব’ নিজে ‘গণ্ডমুর্খ’ হলেও সৈয়দ সাহেবের সিলসিলাভুক্ত লোকদের ‘গণ্ডমুর্খ’ ভাবার কোনই অবকাশ নেই। তাই সৈয়দ সাহেবের বিপক্ষে বলার ক্ষেত্রে দালিলিক প্রমাণ ছাড়া কোন কথা বলবেন না। আমার জানা মতে- তাঁর সিলসিলাভুক্ত লোকদের মধ্যে অনেক জ্ঞানী-গুণী লোক আছেন। সে রকম একজন হলেন দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মুহতারাম কবি রূহুল আমিন খান। তাঁকে এ ব্যাপারে একবার জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন- ‘সৈয়দ’ সাহেবের ব্যাপারে কেউ কিছু বললে আমরা ‘খড়গ’ নিয়ে বসে আছি। একজন সজ্জন, বোদ্ধা, জ্ঞানী ও আশেকে রাসূল (দরুদ) এর মুখে ‘খড়গ’ শব্দ শুনাটা ভড়কে যাবার মতো। ডরনে কা কো-ই বা-ত নেহী ইয়ারোঁ। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি- কবির সাথে কোন সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গি গ্রুপের সম্পর্ক নেই- এটা আমার বিশ্বাস। কারণ তিনি তরিকতপন্থী মানুষ। হোক না ‘সৈয়দ’ সাহেবের সিলসিলাভুক্ত, তাতে কী? আমার মনে হয় তিনি যে ‘খড়গ’ শব্দটি বলেছেন- তা হলো ‘জ্ঞানের খড়গ’। আর জ্ঞানের খড়গের মোকাবিলায় চাই- সমপর্যায়ের অস্ত্র। সে অস্ত্র আপনাদের আছে কী?
আমি ফুলতলী দরবারেও গিয়েছি। ছাহেব কিবলা আল্লামা ফুলতলী (রহ.) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার সুযোগ হয়নি। ওনার সন্তান মাওলানা হুচ্ছামুদ্দীন সাহেবের সাথেও আমার ভালো পরিচয় আছে। পরিচয় আছে- বিখ্যাত মুহাদ্দিস মাওলানা হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ আবদুন নূর, মাওলানা আহমদ হাসান শাহান, মাওলানা ফরিদসহ সেই সিলসিলাভুক্ত অনেকের সাথে। সুসম্পর্ক আছে- আমেরিকা প্রবাসী অনলাইন ‘আল মদিনা’ পত্রিকার সম্পাদক আমার শ্রদ্ধাভাজন বন্ধু মাওলানা হাফিজ ক্বারী আইনুল হুদা সাহেবের সাথেও। তাঁদের সাথে মিশে দেখেছি- তাঁরা সকলেই সুন্নী। মাসিক শাহজালালে লেখার সুবাদে তাঁদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাঁদের মেহমানদারি আমার ক্ষুদ্র জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে অনন্তকাল। তাঁদের সাথে আলাপ করে দেখেছি- তাঁরা সব দোষ খবিস ‘ইসমাঈল দেহলভী’কে দিতে চান। তাঁদের মতে- কুখ্যাত ‘তাকভিয়াতুল ঈমান’ একান্তই ইসমাইল দেহলভীর। সে কায়দা করে তার বইতে তার পীর সাহেবের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাঁদের এই কথাতেও অনেক কথা আছে। মাওলানা কারামাত আলী জৌনপুরীর ‘জখিরায়ে কারামাত’ কিন্তু তাঁদের কথার স্বপক্ষে কথা বলে না। ‘আমি আর খিতা কইরতাম…’?
আমাদের চট্টগ্রামেও অনেক সিলসিলায় ‘সৈয়দ’ সাহেবের অবস্থান পোক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ‘সৈয়দ’ সাহেবের নাম নিয়ে ‘লুকোচুরি’ খেলেন। এক সিলসিলার কর্তা ব্যক্তির কাছে আমি বিষয়টি উত্থাপন করার পর তাদের বইতে পরবর্তী সংস্করণে শাজরা তালিকায় ‘সৈয়দ’ সাহেবের নামটি উধাও হয়ে যায়। বুঝতে পারলাম ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’। আপনারা ঘাঁটলে ‘আধ্যাইন্না শাজরা’ অনেক ছিলছিলায় দেখতে পাবেন। ‘লাড্ডুম’ গ্রপের শাজরাটি দেখার জন্য আমি আমার সম্মানিত পাঠদের অনুরোধ করবো। আবার কিছু কিছু সিলসিলায় সেই ‘সৈয়দ’ সাহেব থাকলেও ‘সৈয়দ’ সাহেবকে ‘তালাক’ দিয়ে সেই সিলসিলার সম্মানিত পীর সাহেবগণকে অন্য তরিকায় ‘বায়াত’ করাতেও দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি অনেকদিন থেকে ভাবলেও ‘বোলতার চাকে’ ঢিল মারার সাহস করিনি। কারণ এ বিষয়ে আমার গবেষণা নেই। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে আমার কিছু পাঠক/পাঠিকা এ বিষয়ে আমাকে কলম ধরার জন্য বারবার অনুরোধ করে আসছিলেন। তাঁরা তো আর আমার জ্ঞানের দৈন্যতার বিষয়ে জানেন না। আমি যে ‘খালি কলসি ঢং ঢং’- তা জানলে তাঁরা নিজেরাও লজ্জা পেতেন।
গতকাল ‘ফারিহা নাজনীন সায়মা’ নামক এক ঈমানী বোন আমার ‘খুনরাঙা দেশে তুমি মাছরাঙা হও’ লেখায় প্রকাশ্যে কমেন্ট করে বসলেন- এই বিষয়ে লিখতে। কিন্তু বিশ্বাস করুন- এ বিষয়ে আমার পড়াশোনা তেমন একটা নেই। ছাত্র অবস্থায় এ বিষয়টি মাথায় ঢুকলেও নতুন করে ‘কাইজ্জা’ শুরু হবে বিধায় চুপ থেকে ছিলাম। বাংলা ভাষায় এক ‘সৈয়দ আহমদ বেরলভী’ সম্পর্কে যতো বই বেরিয়েছে, আর কোন ব্যক্তিকে নিয়ে এতো অধিক সংখ্যক বই বেরোয় নি। ইসলামী বিশ্বকোষসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ‘ইয়া মোটা’ বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই বইগুলোতে গবেষকরা শুধু হাওয়া থেকে তথ্য খুঁজে আনেন নি; বরং পাতাল খুঁড়েও অনেক আজগুবি আজগুবি তথ্য বের করে এনেছেন ‘সৈয়দ’ সাহেব সম্পর্কে। কিন্তু সৈয়দ সাহেবের বিপক্ষে তখন একটি বইও আমি কোথাও খুঁজে পাইনি।
বাংলা ভাষায় সৈয়দ আহমদ বেরলভী সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে- সবই ইতিবাচক লেখা। সেই বইগুলো পড়ে বুঝতে পারলাম- সৈয়দ সাহেবের মতো ‘দ্বীনের খেদমতগার’ দ্বিতীয়টি এই ভারতীয় উপমহাদেশে ছিলো না। কিন্তু ইসলামী বিশ্বকোষ থেকে শুরু করে তার প্রায় সব জীবনী গ্রন্থে একটি কথা পরিষ্কারভাবে লেখা আছে, ‘ আমিরুল মোমেনীন’ সাহেব উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ‘শিরক-বিদআত’ বিলুপ্তকরণে জিহাদ করেছিলেন। তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগে- সেই ‘শিরক আর বিদআত’ গুলো কী কী? মিলাদ-কিয়াম, দরুদ সালাম, ওরস-ফাতেহা, জিয়ারতে আওলিয়া, তাওয়াসসুল, প্রিয় রাসূল (দরুদ) ইলমে গায়ব ও হাযির-নাযির এর মাসআলাগুলো নয় তো? জনাব ‘সৈয়দ’ সাহেবের মুরিদীন, মুতায়াল্লেকীন ও মুহিব্বীনরা আশাকরি বিষয়টি খোলাসা করবেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ‘সৈয়দ’ সাহেবের আকাশচুম্বী বেলুনটাকে একেবারে ফুঁটো করে দিয়েছেন- জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ও মোহাম্মদপূর কাদেরিয়া তৈয়বীয়া আলিয়া মাদ্রাসার দীর্ঘকালীন অধ্যক্ষ, মাসিক সুন্নিবার্তার প্রতিষ্ঠাতা হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল জলিল (রহ)। তিনিও আমার উস্তাদ- রূহানী উস্তাদ। আর বাহ্যিকভাবে আমার দাদা উস্তাদ। তাঁকে আমি দাওয়াত দিয়ে আমিরাতে নিয়ে এসেছিলাম। দীর্ঘ একসপ্তাহ তাঁর সাথে নিবিড় ভাবে মিশেছি। তিনিই বলেছেন- সৈয়দ সাহেব ‘আমিরুল মুমেনীন’ পদবী ধারণ করার পর পাঠানদের যুবতী মহিলাদের দিকে তার দৃষ্টি যায়। তিনি নিজেই এক পাঠান মহিলাকে জোর করে বিয়ে করেন এবং পাঠানদের বাধ্য করেন তাদের মেয়েদের ওই তথাকথিত মুজাহিদদের বিয়ে দিতে। এতে করে এক বিরাট হাইকাউ হয়। এবং পাঠানদের সাথে সৈয়দ সাহেব ও তার গঠিত মুজাহিদ বাহিনীর যুদ্ধ হয়। এবং সেই যুদ্ধে সৈয়দ সাহেবের ভবলীলা সাঙ্গ হয়। পরবর্তীতে এম. এ জলিল (রহ.) ‘বালাকোট আন্দোলনের হাকীকত’ নাম দিয়ে একটি বইও অনুবাদ করেন। ওই একটি বই-ই আছে- যেখানে ‘সৈয়দ’ সাহেবের জারিজুড়ি সব ফাঁস করা হয়েছে। পড়তে পারেন সেটিও।
কিন্তু ‘সৈয়দ সাহেব’ যে ঘৃণ্য ওহাবীবাদের ‘দালাল’ ছিলেন- তা দিবালোকের মতো স্পস্ট। খবিস ইবনে আবদুল ওহাব নজদী রচিত কিতাবুত তাওহীদের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভুমিকায় তা আমি নিজ চোখে দেখেছি। বর্তমানে কিতাবটি আমার হাতে নেই। তাছাড়া ওই খবিস ‘ইবনে আবদুল ওহাব নজদী’র জীবনী গ্রন্থেও বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে গর্ব ভরে উল্লেখ আছে যে, তারা ‘সৈয়দ’ সাহেবকে ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের ঘৃণ্য ‘ওহাবীবাদ’ প্রচারের জন্য নিয়োগ করেছিলেন। বাকি- আল্লাহু ওয়া রাসূলুহু আলামু। আমি আর কিচ্ছু জানি না। আমার আইডিতে সৈয়দ আহমদ বেরলভীপন্থী ও বিরোধী উভয় পক্ষের অনেক বন্ধু আছেন। আপনার দালিলিকভাবে ‘সৈয়দ’ সাহেবের কীর্তিগুলো তুলে ধরুন। অন্য কারো সম্পর্কে বা অন্য কিছু নিয়ে ‘হাউকাউ’ করার কোন প্রয়োজন নেই।
বি.দ্র.: এই লেখাটি ব্লগে পড়তে ক্লিক করুন- http://www.somewhereinb
log.net/blog/Ataiyabi/30077051
তারিখ: ১০ অক্টোবর, ২০১৫
আবুধাবি, ইউ.এ.ই।
আবছার তৈয়বী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)- দুবাই, ইউ.এ.ই।
প্রতিষ্ঠাতা: আদর্শ লিখক ফোরাম (আলিফ), চট্টগ্রাম।
নির্বাহী সদস্য: আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন, ইউ.এ.ই কেন্দ্রীয় পরিষদ, আবুধাবি।

Posted from WordPress for Android

নববর্ষ সংগীত

হিজরী নববর্ষের সঙ্গীত
-আবছার তৈয়বী
আসন্ন হিজরী নববর্ষ-১৪৩৭ উপলক্ষে ‘ইকরা ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া’সহ বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ‘হিজরী নববর্ষের সঙ্গীত’খানা রচনায় ব্রতী হয়েছি।
আমার কাছে ভালো লাগতো- যদি প্রত্যেকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য আলাদা আলাদা সঙ্গীত রচনা করতে পারতাম।
কিন্তু জ্ঞানের দৈন্যতা, সময়ের স্বল্পতা এবং ‘সুর-তাল-লয়’ সম্পর্কে অপরিপক্ষতার দরূণ প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে সঙ্গীত রচনা করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।
আমি আশা করবো- চট্টগ্রাম, ঢাকা ও অন্যান্য যে সকল স্থানে ‘হিজরী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান’ হবে, সকল অনুষ্ঠানে সকল শিল্পীগোষ্ঠির সমন্বয়ে নির্বাচিত ‘শায়ের- শিল্পীবৃদ’ সম্মিলিত কন্ঠে আমার এই সঙ্গীতটি গাইবেন।
রমনার বটমূলে বা ডিসি হিলে যেভাবে সম্মিলিত কন্ঠে বাংলা নববর্ষের সঙ্গীত গাওয়া হয়- ঠিক সেভাবে।
‘সুর-তাল লয়’ সম্পর্কে কোন কিছু জানার ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই গীতিকারের সাথে যোগাযোগ করবেন- উইদাউথ এনি হেজিটেশন।
আমার অগণিত পাঠক/পাঠিকাসহ সকল বন্ধুদের জানাই অগ্রিম

image

শুভেচ্ছা- ‘শুভ হিজরী নববর্ষ’।
‘কুল্লু আ-ম ওয়া আনতুম বিখাইর’- মা’আস সালাম।
আপনাদের
গুণমুগ্ধ-
আবছার তৈয়বী, আবুধাবি, ইউ.এ.ই।
☆☆☆☆☆☆☆☆☆
হিজরী নববর্ষের সঙ্গীত
-আবছার তৈয়বী
❀✿❀✿❀✿❀✿❀✿❀✿❀✿❀✿❀
বছর ঘুরে আবার এলো মাহে মুহররম
সবাইকে তাই জানাই আজি শুভেচ্ছা স্বাগতম।

মুহররমের এই মাসেতে দুনিয়া সৃজন
আবার হবে এই মাসেতে প্রলয় সংঘটন,
খোদার রঙে রাঙাবো ভাই আমার এই জীবন
ভালোবাসা দিয়ে সবে করবো আপন।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

এই মাসেতে হযরত আদম সৃষ্টি হলো
জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় নেমে এলো,
আদম হাওয়ার দুঃখের জীবন শুরু হলো
আরাফাতে গিয়ে তাঁদের হলো যে মিলন।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

জগত জুড়ে খোদার গজব বন্যা হলো
নবীপুত্র কেনান কাফির ধ্বংস হলো,
এই মাসেতে নূহ নবী রক্ষা পেলো
শুরু হলো নূহ নবীর নতুন এক জীবন।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

মুহররমে নাজাত পেলো নবী ইব্রাহীম
আগুন হলো তাঁহার তরে পরশ শীতল হিম,
মুসলমানের জাতির পিতা নবী ইব্রাহীম
দরুদ পড়ে তাঁহার তরে সকল মুসলিম।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

এই মাসেতে মূসা নবী নাজাত পেলেন
সদলবলে নীল নদীটা পাড়ি দিলেন,
মরলো ডুবে নীল নদীতে জালিম ফেরাউন
শোকরিয়ায় মুসলমানে রোযা করে পালন।
বছর ঘুরে আবার এলো….ঐ

এই মাসেতে আইয়ুব নবী শেফা পেলো
দীর্ঘদিনের রোগটা তাঁহার ভালো হলো,
রূপ-যৌবন আর ক্ষমতা ফিরে পেলো
সবর করে তিনি পেলেন নতুন এক জীবন।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

এই মাসেতে নবী-রাসূল নেয়ামত পেলো
খোদার দানে জীবন তাঁদের ধন্য হলো,
পুণ্যপথে সকলেই তাই সামনে চলো
‘আশূরা’ এই মাসেরই তারিখটা দশম।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

এ মাসেরই স্মৃতিবাহী ফোরাত কারবালা,
মুমিন হৃদে দাগ কাটিল বাড়িল জ্বালা,
চললো নবী বংশের ওপর জুলুমের পালা
দান করিল আলে রাসূল (দ.) নিজেদের জীবন।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

মানবতার প্রতীক হলেন হযরত হোসাইন,
নবী বংশের বাতি তিনি মু’মিনজনের জান,
কারবালাতে হলেন শহীদ দিলেন নিজের প্রাণ
হৃদ মিনারে তাঁর-ই প্রেমের আছে অনুরণ।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

এদেশেরই সূর্য সন্তান ওলি-আওলিয়া
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের পিয়া,
জ্বালাবো আজ মনের মাঝে প্রেমের-ই দিয়া
চরিত্র তাঁদের জানো অতি অনুপম।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

নতুন সালের নতুন দিনে এসো তুমি ভাই
হিংসা-দ্বেষ আজ ভুলে সবে সমুখে তাকাই,
ভালোবাসার শক্তি বেশি তৈয়বী বলে যাই
শান্তি দিয়ে গড়বো মোরা বিশ্ব অনুপম।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

আলো ভরা ছায়া ঘেরা আমার-ই দেশখানি
দেশপ্রেমকে ঈমানের-ই অঙ্গ সবে জানি,
অপসংস্কৃতি রুখতে হলে করো মরণ পণ
প্রয়োজনে হবো সবাই সিপাহী দুর্দম।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

এসো তবে নতুন করে জীবন শুরু করি
বাতিল যতো পায়ে দলে নবীর পথটি ধরি,
এলোমেলো জীবনটাকে ধন্য সবে করি
আজ শুধু নয়- সারা বছর ডাকিব হরদম।
বছর ঘুরে আবার এলো…..ঐ

তারিখ: ০৭ অক্টোবর, ২০১৫
আবুধাবি, ইউ.এ.ই।

Posted from WordPress for Android

রাসূলে পাক (সঃ) নূরের নবী

রাসূলে পাক নূরের নবী

image

অনাদি ও অনন্ত স্বত্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন একা ও অপ্রকাশিত ছিলেন, তখন তাঁর আত্মপ্রকাশের সাধ ও ইচ্ছা জাগরিত হলো।
তখন তিনি একক সৃষ্টি হিসাবে নবী করীম রাউফুর রাহিম নূরে মোজ্জাস্সাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক পয়দা করলেন। কোরআন ও হাদীস শরীফের আলোকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরি এর দলিলসমূহ অনুবাদসহ বিজ্ঞ পাঠকের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি।
কোরআন শরীফের আলোকে :
আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন- ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে।। (সূরা মায়িদা আয়াত- ১৫)
আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হল :-
 দলিল নং ১ :-
বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আব্বাস এর মধ্যে আছে-
ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺅﺳﻠﻢ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আব্বাস পৃষ্ঠা ৭২)।
 দলিল নং ২ :-
ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রা) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন-
ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻲ ﺑﺎﻟﻨﺆﺭ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺅﺳﻠﻢ ﺍﻟﺬﻱ ﺍﻧﺎﺭ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻪ ﺍﻟﺤﻖ ﻭﺍﻇﻬﺮﺑﻪ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻭﻣﺤﻖ ﺑﻪ ﺍﻟﺸﺮﻙ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরিককে
নিশ্চিহ্ন করেছেন। ( তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
্থ ফাযিল স্নাতক ২য় বর্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা।
 দলিল নং ৩ :-
মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) (যিনি ‘খাজিন’ নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন-
ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻰ ﺑﺎﺍﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻧﻤﺎ ﺳﻤﺎﻩ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻻﻧﻪ ﻳﻬﺪﻯ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﻓﻲ ﺍﻟﻈﻼﻡ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণ তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।
 দলিল নং ৪ :-
ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রা) এই আয়াত শরীফ ( ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ) প্রসঙ্গে বলেন-
ﻭﺍﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻻﻧﻪ ﻳﻬﺘﺪﻱ ﺑﻪ ﻛﻤﺎ ﺳﻤﻲ ﺳﺮﺍﺟﺎ ﻣﻨﻴﺮﺍ –
আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে। (তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।
 দলিল নং ৫ :-
ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রা) এই আয়াত শরীফ ( ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ) প্রসঙ্গে বলেন- ﺍﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
আর যারা বলে যে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রা) সে সম্পর্কে বলেন- ﻫﺬﺍ ﺿﻌﻴﻒ ﻻﻥ ﺍﻟﻌﻄﻒ ﻳﻮﺟﺐ ﺍﻟﻤﻐﺎﻳﺮﺓ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﻌﻄﻮﻑ ﻭﺍﻟﻤﻌﻄﻮﻑ ﻋﻠﻴﻪ
এই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা’তুফ (সংযোজিত) ও মা’তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা প্রমাণ করে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।
 দলিল নং ৬ :-
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রা) বলেনঃ ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻫﻮ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। (তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)
 দলিল নং ৭ :-
আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রা) বলেন-
ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻋﻈﻴﻢ ﻫﻮ ﻧﻮﺭ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭﺍﻟﻨﺒﻰ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻰ ﺫﻫﺐ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻭﺍﻟﺰﺟﺎﺝ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে। আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহ ও যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭)।
 দলিল নং ৮ :-
আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রা) বলেন-
ﻗﻴﻞ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﺍﻻﻭﻝ ﻫﻮ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺑﺎﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ –
অর্থঃ বলা হয়েছে যে, প্রথমটা অর্থাৎ নূর দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয়টা অর্থাৎ কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯)
আর অগ্রসর হয়ে বলেন-
ﺳﻤﻰ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻧﻮﺭﺍ ﻻﻥ ﺍﻭﻝ ﺷﻴﺊ ﺍﻇﻬﺮﻩ ﺍﻟﺤﻖ ﺑﻨﻮﺭ ﻗﺪﺭﺗﻪ ﻣﻦ ﻇﻠﻤﺔ ﺍﻟﻌﺪﻡ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭﻯ –
অর্থ: আল্লাহ তায়া’লা রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম রেখেছেন নূর। কেননা আল্লাহ তায়া’লা তাঁর কুদরতের নূর থেকে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ করেছেন তা তো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। যেমন তিনি ফরমায়েছেন- আল্লাহ তায়া’লা সর্বপ্রথম আমার নূর মোবারক কে সৃষ্টি করেছেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯)।
 দলিল নং ৯ :-
ইমাম মুহীউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মদ আল- হোসাইন আল-ফাররা আল-বাগাভী (রা) বলেন-
ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻳﻌﻨﻰ ﺑﺎﺍﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে মাআলিমুত তান্যীল, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৩, তাফসীরে খাযিনের পাদ টীকা)
এ ছাড়া আরো অনেক তাফসীর গ্র্েরন্থর মধ্যে আছে যে প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরি তা নিম্নরূপ :-
সুরা মায়েদা পারা ৬, ১৫ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৫৪। ২। তাফসীরে আবি সউদ ২য় খন্ড, পৃ- ২৫১, ৩। তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃ- ৩৬৯, ৪। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১ম খন্ড, পৃ- ৩৬০, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭, ৫। তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৮৬, ৬। তাফসীরে কবীর ১১তম খন্ড, পৃ- ১৬৩, ৭। তাফসীরে কুরতুবী ৬ষ্ঠ খন্ড পৃ- ১১৮, ৯। তাফসীরে বায়জাভী ১ম খন্ড, পৃ- ৬৪, ১০। তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড, পৃ- ৬৮, ১১। তাফসীরে কবীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৪৬২, ১২। ছফওয়াতুত তাফাসীর ২য় খন্ড, পৃ- ১৪০, ১৩। তাফসীরে দুররে মানসুর ২য় খন্ড, পৃ- ১৮৭, তাফসীরে নূরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬১, তাফসীরে নঈমী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫।
সূরা তাওবা পারা ১০, ৩২ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে দুররে মানসুর ৩ খন্ড, পৃ- ২০১, ২। তাফসীরে কবীর ১৬ম খন্ড, পৃ- ৩৪, ৩। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৪ম খন্ড, পৃ- ৪৮।
 সুরা নূর পারা ১৮, আয়াত নং ৩৫:-
১। তাফসীরে ইবনে আব্বাস ৪র্থ খন্ড, পৃ- ২৪, ২। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১০ম খন্ড, পৃ- ১৬৬।
 সুরা আহযাব আয়াত নং ৪৬:-
১। তাফসীরে আহকামুল কোরআন লিল ইবনুল আরাবী ৩য় খন্ড, পৃ- ১৫৪৬, ২। তাফসীরে মাওয়ারদী ৪র্থ খন্ড, পৃ- ৪১১।
প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শানে না’ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিবেশনকারী অন্যতম সাহাবী হযরত ক’ব
বিন যোহাইর (রা) তাঁর নিম্নোক্ত কাসিদার মধ্যে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নূরের নবী বলে সম্বোধন করেছেন- ﺍﻥ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻟﻨﻮﺭﻳﺴﺘﻀﺎﺀ ﺑﻪ ﻣﻬﻨﺪ ﻣﻦ ﺳﻴﻮﻑ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺴﻠﻮﻝ –
অর্থ : নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূর, যা দ্বারা আলোকিত হওয়া যায়। তিনি আল্লাহর তরবারি সমূহের মাঝে ধারালো উজ্জ্বল তরবারি। (কাসিদা- ই- কা’ব বিন যোহাইর (রা), মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক আলিম শ্রেণির সিলেবাসের অন্তরভুক্ত আরবী সাহিত্য বইয়ের ১৪৮ পৃষ্ঠা)
হাদীস শরীফের আলোকে :
 দলিল নং ১০:-
ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺎﺑﻰ ﺍﻧﺖ ﻭﺍﻣﻰ ﺍﺧﺒﺮﻧﻰ ﻋﻦ ﺍﻭﻝ ﺷﺊ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ؟ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺪ ﺧﻠﻖ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻧﻮﺭﻧﺒﻴﻚ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻓﺠﻌﻞ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻳﺪﻭﺭ ﺑﺎﻟﻘﺪﺭﺓ ﺣﻴﺚ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻲ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﻟﻮﺡ ﻭﻻ ﻗﻠﻢ ﻭﻻ ﺟﻨﺔ ﻭﻻ ﻣﻠﻚ ﻭﻻ ﺳﻤﺎﺀ ﻭﻻ ﺍﺭﺽ ﻭﻻ ﺷﻤﺲ ﻭﻻ ﻗﻤﺮ ﻭﻻ ﺟﻦ ﻭﻻ ﺍﻧﺲ – ﻓﻠﻤﺎ ﺍﺭﺍﺩ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻗﺴﻢ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻻﻭﻝ ﺍﻟﻘﻠﻢ ﻭ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻠﻮﺡ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﺛﻢ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺑﻊ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻻﻭﻝ ﺣﻤﻠﺔ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻟﻜﺮﺳﻰ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺑﺎﻗﻰ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺛﻢ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﺮﺑﻊ ﺍﺭﺑﻊ ﺍﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻻﻭﻝ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻻﺭﺿﻴﻦ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﺍﻟﻨﺎﺭ————————————— ﺍﻟﺦ –
অর্থ : হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মা-বাবা আপনার কদম মোবারকে উৎসর্গিত, আপনি দয়া করে বলুন, সকল বস্তুর পূর্বে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়া’লা কোন বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়’লা সমস্ত কিছুর পূর্বে তোমার নবীর (তোমার) নূর মোবারক তাঁরই নূর মোবারক হতে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর ওই নূর আল্লাহ তায়’লারই মর্জি মুতাবেক তাঁরই কুদরতি শক্তিতে পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল বেহেশ্ত-দোযখ, আর ছিলনা আসমান-যমীন, চন্দ্র-সূর্য, মানব ও দানব। এক পর্যায়ে মহান আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত পয়দা করার মনস্থ করেছিলেন, প্রথমেই ওই নূর মোবারককে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম অংশ দিয়ে কলম, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে লওহ, তৃতীয় অংশ দিয়ে আরশ, সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে পুণরায় চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমাংশ দিয়ে আরশবহনকারী ফেরেশতাদের দ্বিতীয় অংশ দ্বারা কুরসী, তৃতীয় অংশ দ্বারা অন্যান্য ফেরেশতাদের সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে আবারও চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে সপ্ত আসমান, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে সপ্ত যমীন, তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেশত-দোযখ এবং পরবর্তী ভাগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল বস্তু সৃষ্টি করে। (আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭১)।
 দলিল নং ১১:-
ﻋﻦ ﻛﻌﺐ ﺍﻟﺨﺒﺎﺭ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻟﻤﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ ﺑﺴﻂ ﺍﻻﺭﺽ ﻭﻗﻊ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻭﻗﺒﺾ ﻗﺒﻀﺔ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻟﻬﺎ ﻛﻮﻧﻰ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻓﺼﺎﺭﺕ ﻋﻤﻮﺩﺍ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻓﻌﻼ ﺣﺘﻰ ﺍﻧﺘﻬﻰ ﺍﻟﻰ ﺣﺠﺐ ﺍﻟﻌﻈﻤﺔ ﻓﺴﺠﺪ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺳﺠﻮﺩﻩ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻬﺬﺍ ﺧﻠﻘﺘﻚ ﻭ ﺳﻤﻴﺘﻚ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻨﻚ ﺍﺑﺪﺍ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻭ ﺑﻚ ﺍﺧﺘﻢ ﺍﻟﺮﺳﻞ –
অর্থ : হযরত কাব আহবার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন যখন সৃষ্টি জগত সৃজন করার ইচ্ছা করলেন তখন মাটিকে সস্প্রসারিত করলেন, আকাশকে উঁচু করলেন এবং আপন নূও হতে এক মুষ্ঠি নূর গ্রহন করলেন। তারপর উক্ত নূরকে নির্দেশ দিলেন’ তুমি মুহাম্ম্দ হয়ে যাও।’ অতএব সে নূও স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠতে থাকল এবং মহত্বের পর্দা পর্যন্ত পৈাছে সিজদায় পরে বলল,’আলহামদুলিল্লাহ্’ তখন আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে ইরশাদ হল,এজন্যই তোমাকে সৃষ্টি করেছি আর তোমার নাম মুহাম্ম্দ রেখেছি। তোমার হতেই সৃষ্টি কাজ শুরু করব এবং তোমাতেই রিসালাতের ধারা সমাপ্ত করব। (সিরাতুল হালাভিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০)।
 দলিল নং ১২-
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻛﻨﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﺸﺠﺮ ﺛﻮﺑﺎ ﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﻧﻄﻔﺎ ﺍﻟﻤﺼﺒﺎﺡ ﻭ ﺳﻘﻄﺖ ﺍﻻﺑﺮﺓ ﻣﻦ ﻳﺪﻱ ﻓﺪﺧﻞ ﻋﻠﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﺿﺎﺀ ﻣﻦ ﻧﻮﺭ ﻭ ﺟﻬﻪ ﻓﺠﺪﺕ ﺍﻻﺑﺮﺓ –
অর্থ : “হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাপড় মোবারক সেলাই করেছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুচটি হারিয়ে ফেললাম। এরপরই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুচটি খুজে পেলাম”। (ইমাম ইবনে হায়তামী (রাঃ) এর আন-নে’মাতুল কোবরা আলার আলম গ্রন্থে ৪১ পৃষ্ঠা)।
 দলিল নং ১৩-
ﺍﺧﺮﺝ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﻌﺪﻧﻲ ﻓﻰ ﻣﺴﻨﺪﻩ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺍﻥ ﻗﺮﻳﺸﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﻧﻮﺭﺍ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﺑﺎﻟﻔﻰ ﻋﺎﻡ ﻳﺴﺒﺢ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻭ ﺗﺴﺒﺢ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺑﺘﺴﻴﺤﻪ ﻓﻠﻤﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺩﻡ ﺍﻟﻘﻲ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻞ ﺍﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﻫﺒﻄﻨﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻰ ﺍﻻﺭﺽ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﺍﺩﻡ ‏( ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ‏) ﻭ ﺟﻌﻠﻨﻰ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﻧﻮﺡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭ ﻕ ﻑ ﺑﻰ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺛﻢ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻨﻘﻠﺒﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻼﺏ ﺍﻟﻜﺮﻳﻤﺔ ﻭ ﺍﻻﺭﺣﺎﻡ ﺍﻟﻄﺎﻫﺆﺓ ﺣﺘﻰ ﺍﺧﺮﺟﻨﻰ ﻣﻦ ﺑﻴﻦ ﺍﺑﻮﻯ ﻟﻢ ﻳﻠﺘﻘﻴﺎ ﻋﻠﻰ ﺳﻔﺎﺡ ﻗﻂ –
অর্থ : হযরত ইবনে আলী ওমর আল-আদানী স্বীয় মুসনাদে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে তাঁর সন্তানদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার তারতম্যটুকুও দেখাতে লাগলেন। তিনি ( আদম আলাইহিস সালাম ) তাদের মধ্যে শেষপ্রান্তে একটা উজ্জ্বল নূর দেখাতে পেলেন। তখন তিনি বললেন,” হে রব! ইনি কে? ( যাকে সবার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত নূর হিসাবে দেখতে পাচ্ছি?) উত্তরে মহান রব্বুল আলামীন ইরশাদ করলেন,” ইনি হলেন তোমার পুত্র-সন্তান হযরত আহমদ মুজ্তবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি হবেন আমার দরবারে প্রথম সুপারিশকারী (ক্বিয়ামতের দিনে)। ( আল-খাসাইসুল কুবরা ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯)
 দলিল নং ১৪-
ইমাম হাফেজ আবুল ফযল ক্বাযী আয়ায (রা) বলেন-
ﻭ ﻗﺪ ﺳﻤﺎﻩ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻰ ﻭ ﺳﺮﺍﺟﺎ ﻣﻨﻴﺮﺍ ﻓﻘﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻭ ﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻧﺎ ﺍﺭﺳﻠﻨﺎﻙ ﺷﺎﻫﺪﺍ ﻭ ﻣﺒﺸﻴﺮﺍ ﻭ ﻧﺬﻳﺮﺍ ﻭ ﺩﺍﻋﻴﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺎﺫﻧﻪ ﻭ ﺳﺮﺍﺟﺎ ﻣﻨﻴﺮﺍ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﻏﻴﺮ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﻮﺿﻊ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻻﻇﻞ ﻟﺸﺨﺼﻪ ﻓﻲ ﺷﻤﺲ ﻭ ﻻ ﻗﻤﺮ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﺍ ﺍﻟﺬﺑﺎﺏ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻘﻊ ﻋﻠﻰ ﺟﺴﺪﻩ ﻭ ﻻ ﺛﻴﺎﺑﻪ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া’লা কোরআন করীমে তাঁর নাম রেখেছেন নূর ও সিরাজুম্ মুনীর। যেমন তিনি ফরমায়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। আরো ফরমায়াছেন, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি হাজের ও নাজেররূপে, আল্লাহর অনুমক্রিমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ (সিরাজুম মুনীর ) রূপে। নিশ্চয়ই তাঁর ছায়া ছিল না. না সূর্য়ালোকে না চন্দ্রালোকে কারণ তিনি ছিলেন নূর। তাঁর শরীল ও পোশাক মোবারকে মাছি বসত না। (শিফা শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৪২)।
 দলিল নং ১৫-
ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻠﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺳﺎﺋﻞ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻛﻢ ﻋﻤﺮﻙ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﻴﻦ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺴﺖ ﺍﻋﻠﻢ ﻏﻴﺮ ﺍﻥ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﺠﺎﺏ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻧﺠﻤﺎ ﻳﻄﻠﻊ ﻓﻲ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﺍﻟﻒ ﺳﻨﺔ ﻣﺮﺓ ﺭﺍﻳﺘﻪ ﺍﺛﻨﻴﻦ ﻭ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﺍﻟﻒ ﻣﺮﺓ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻭ ﻋﺰﺓ ﺭﺑﻰ ﺟﻞ ﺟﻼ ﻟﻪ ﺍﻧﺎ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻜﻮﺏ-
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জিব্রাঈল আলায়হিস সালামকে জিজ্ঞেসা করলেন, ওহে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? উত্তরে জিব্রাঈল বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো সঠিক জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি ( সৃষ্টি জগত সৃষ্টির পূর্বে) আল্লাহ তায়’লা নূরানী আযমতের পর্দা সমূহের চতুর্খ পর্দায় একটি নূরানী তারকা সত্তর হাজার বছর পরপর উদিত হত। আমি আমার জীবনে সেই নূরানী তারকা বাহাত্তর হাজার বার উদিত হতে দেখেছি। অতঃপর নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম ইরশাদ করলেন মহান রাব্বুল আলামীনের ইজ্জতের কসম করে বলছি, সেই অত্যুজ্জ্বল নূরানী তারকা আমিই ছিলাম। (সীরাতে হালাভীয়া পৃষ্ঠা ৪৯, তাফসীরে রুহুল বয়ান পৃষ্ঠা ৫৪৩)
 দলিল নং ১৬-
ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻇﻞ ﻓﻲ ﺷﻤﺲ ﻭ ﻻ ﻗﻤﺮ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﺍ –
অর্থ : “সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা, তিনি ছিলেন আপদমস্তক নূর”। (যুরকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২২০)।
এ ছাড়া আরো অনেক হাদীস শরীফ গ্র্েরন্থর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরি তা নিম্নরূপ :-
১। মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা ৫১৩, ২৪ এর ১০নং হাশিয়া, ৫১১ এর ৬নং হাশিয়া, তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৭, মাওয়াহিবে লাদুনিয়া পৃষ্ঠা ৪৫,শরহে সুন্নাহ ১০ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২০৭, মিরকাত ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৬,১৬৬,১৯৪। তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, প- ৩৭, মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়ার ২য় খন্ড, পৃ- ২৮৬, ১৮। নশরুততীব পৃ- ৫, কৃতঃ আশরাফ আলী থানবী, ১৯। এমদাদুছ ছুলূক পৃষ্ঠা ২০১, কৃতঃ রশিদ আহমেদ গাংগুহী। ২০। শুকরে নিয়ামত কৃতঃ কাসেম নানুতুবী, গাওহারে সিরাজী পৃষ্ঠা ৬৯, কৃত : সিরাজুল ইসলাম।
হে আল্লাহ ! তুমি সকলকে হুববে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও দীদারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নসীব করো। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা খাইরি খালাক্বহী ওয়া নূরে যাতিহী ওয়া জীনাতি ফারশিহী সাইয়েদিনা ওয়া মাওলানা মোহাম্মদিও ওয়া আলা আলিহী ওয়া আসহাবিহী আজমাঈন। আমীন !

Posted from WordPress for Android

animation

Beautiful Animation Continue reading “animation”

Www.yqadri.wordpress.com

IMG_২০১৫০৭১৬_২৩১৮৫৯-picsay

♥আযানের পূর্বে ও পরে দরুদ ও সালাম প্রসঙ্গ♦

♥আযানের পূর্বে ও পরে দরুদ ও
সালাম প্রসঙ্গ♦

⬇⬇⬇⬇⬇⬇⬇⬇⬇⬇⬇
আযানের পূর্বে ও পরে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা শুধুমাত্র জায়েজই নয় বরং উত্তম।
ইহা শরীয়ত স্বীকৃত একটি গ্রহনযোগ্য ইবাদত। যা অস্বীকার করার মোটে ও কোন সুযোগ নেই।
প্রথমে আমরা আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম
পাঠ করা সর্ম্পকে আলোকপাত করবো।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদেরকে দরুদ ও সালাম পাঠ করার নির্দেশ প্রদান পূর্বক পবিত্র কুরআন
মাজীদে ইরশাদ করেন,
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ
ﻣﻼﺋﻜﺘﻪ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ
ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻤﻮﺍ ﺗﺴﻠﻴﻤﺎ –
অর্থাৎ:-
আল্লাহ ও তাঁর ফেরেস্তাগন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি (সদা-সর্বদা) দরুদ ও সালাম পাঠ করে থাকেন।
হে ঈমানদারগণ তোমরা ও সেই নবীর প্রতি বেশি বেশি শ্রদ্ধাসহকারে সালাত ও
সালাম পাঠকর।(সূরাহ আহযাব,
আয়াত নং- ৫৬)

প্রিয় পাঠক
বৃন্দ, দেখুন অত্র আয়াতে কারীমায় দরুদ ও সালাম পাঠ করাকে কোন নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়নি
বিধায় নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত অন্য যে কোন মুহুর্তে নবীজীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা
প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য বৈধ ও কর্তব্য।
আযানের সময়টি ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সুতরাং
উক্ত আয়াতে এই সময়টি ও অর্ন্তুভুক্ত।
এখন আমরা দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করবো ইনশআল্লাহ।
যার মাধ্যমে প্রতিয়মান হবে যে, আযানের
পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা জায়েজ ও মুস্তাহাব।

দলীল নং- ০১: জগত বিখ্যাত ফাতাওয়ার কিতাব ফাতাওয়ায়ে শামীর মধ্যে
বর্নিত আছে ﻭﻣﺴﺘﺤﺒﺔ ﻓﻰ ﻛﻞ ﺍﻭﻗﺎﺕ
ﺍﻻﻣﻜﺎﻥ ﺍﻯ ﺣﻴﺚ ﻻ ﻣﺎﻧﻊ
অর্থাৎ
নিষিদ্ধ স্থান ও সময় ব্যতীত অন্য যে কোন মুহুর্তে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্থাহাব।
এখন প্রশ্ন হবে কোন কোন স্থানে দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ?
তার জবাবে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রাহঃ) ঐ (শামী) কিতাবের একই পৃষ্ঠায় একটু অগ্রসর হয়ে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বর্ননা করেছেন ﺗﻜﺮﻩ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻠﻴﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻰ ﺳﺒﻌﺔ ﻣﻮﺍﺿﻊ .
অর্থাৎ
সাত স্থানে আল্লাহর হাবীরের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ।
তাছাড়া অন্য সবক্ষেত্রে সর্বাবস্থায়
পাঠ করা মুস্তাহাব।
নিষিদ্ধ
স্থান সমূহ নিম্মরূপঃ

(১) স্বামী-স্ত্রীর মিলন কালে।
(২) প্রশ্রাব-পায়খানার সময়।
(৩) ব্যবসায়ী সামগ্রী প্রচারার্থে।
(৪) হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার সময়।
(৫)আশ্চার্যজনক কোন ঘটনা শ্রবনকালে।
(৬) জবেহ করার সময়।
(৭) এবং হাঁছি দেওয়ারসময়।

দেখুন নিষিদ্ধ স্থান ও সময়ের মধ্যে আযানের কথা যেহেতু উল্লেখ নেই সেহেতু আযানের
পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করাও মুস্তাহাব প্রতীয়মান হলো।

দলীল নং- ০২: মক্কা শরীফের ফাতাওয়ার কিতাব ইয়ানাতুত তালেবীন যা লিখেছেন
আল্লামা বিক্রী (রাহঃ) যিনি ছিলেন মক্কা শরীফের একজন প্রসিদ্ধ মুফতী।
তিনি তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ﺍﻟﺒﻜﺮﻯ ﺍﻧﻬﺎ ﺗﺴﻦ ﻗﺒﻠﻬﻤﺎ
ﺍﻯ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺫﺍﻥ ﻭﺍﻻﻗﺎﻣﺔ . –
অর্থাৎ তিনি
বলেন আযান এবং ইকামাত উভয়ের পূর্বেই দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।

দলীল নং- ০৩: আল্লামা ইমাম কাজী আয়াজ (রাহঃ) রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করতে গিয়ে
ইরশাদ করেছেন ﻭﻣﻦ ﻣﻮﺍﻃﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ
ﻋﻠﻴﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻋﻨﺪ ﺫﻛﺮﻩ ﻭ
ﺳﻤﺎﻉ ﺍﺳﻤﻪ ﺍﻭ ﻛﺘﺎﺑﺘﻪ ﺍﻭ ﻋﻨﺪ ﺍﻻﺫﺍﻥ
অর্থাৎ দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব ওয়াক্ত সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলোচনা কালে, তাঁর নাম মোবারক
শ্রবনকালে ও লিখার সময় এবং আযানের পূর্বে।
এখানে ﻋﻨﺪ (ইন্দা) শব্দের অর্থ হলো পূর্বে।
যার প্রমাণ নিম্মোক্ত হাদীস
শরীফে পাওয়া যায়। যেমনঃ ﻗﺎﻝ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻟﻮﻻ ﺍﻥ
ﺍﺷﻖ ﻋﻠﻰ ﺍﻣﺘﻰ ﻻﻣﺮﺗﻬﻢ ﺑﺎﻟﺘﺎﺧﺮ ﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﻭ
ﺑﺎﻟﺴﻮﺍﻙ ﻋﻨﺪ ﻛﻞ ﺻﻼﺓ –
অর্থাৎ
উম্মতের কান্ডারী রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার নবুয়াতী জবানে ঘোষণা করেছেন যদি আমি উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম তাহলে আমি
অবশ্যই তাদেরকে (উম্মত কে) নির্দেশ প্রদান করতাম যে তারা যেন ইশার নামাজকে
বিলম্বে আদায় করে এবং প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করে। (বুখারী ও মুসলিম)

দলীল নং- ০৪: মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত মাযহাব চতুষ্টয়ের উপর লিখিত ফেকাহ শাস্ত্রের
কিতাব আল ফিকহু আলাল মাজাহিবিল আরবায়া নামক কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে ﺑﺎﺏ
ﺻﻠﻮﺓ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺒﻞ
ﺍﻻﺫﺍﻥ ﻭﺍﻟﺘﺴﺎﺑﻴﺢ ﻗﺒﻠﻪ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ
উক্ত শিরোনাম দ্বারা ফকীহ নিজেই আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করাকে বৈধ বা
জায়েজ বলে ফাতাওয়া প্রদান করেছেন।

দলীল নং- ০৫: তাফসীরে রুহুল বয়ানের লিখক বিশ্ব বিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা ঈসমাইল হাক্কী (রাহঃ) সূরাহ
আহযাবের ৫৬নং আয়াতের ব্যাখায় দরুদ ও সালাম পাঠের মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা
করতে গিয়ে তিনি বলেন ﻋﻨﺪ
ﺍﻻﺑﺘﺪﺍﺀ ﻛﻞ ﺍﻣﺮ ﺫﻯ ﺑﺎﻝ অর্থাৎ
প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল কাজশুরু করার পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।
সুতরাং আযান যেহেতু ইসলামী শরীয়তের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল কাজ সেহেতু
আযানের পূর্বে ও সালাত ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।
যাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

দলীল নং- ০৬: দোজাহানের কান্ডারী রাহমাতুল্লিল আলামীনের প্রখ্যাত সাহাবী
হযরত উবাই ইবনে কা’আব (রাঃ) আল্লাহর হাবীবকে লক্ষ্য করে বললেন
ﺍﺟﻌﻞ ﻟﻚ ﺻﻠﻮﺍﺗﻰ
ﻛﻠﻬﺎ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﺍﺫﺍ ﻳﻜﻔﻲ ﻫﻤﻚ ﻭ ﻳﻐﻔﺮ ﻟﻚ ﺫﻧﺒﻚ
অর্থাৎ ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করাকে সব সময়ের
(চব্বিশ ঘন্টার) জন্য অপরিহার্য করে নিলাম, তখন প্রতিদান স্বরুপ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য ইহাই যথেষ্ট হবে এবং তোমার সকল পাপ ও ক্ষমা করা হবে।
সুবহানাল্লাহ!
এতে দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার হলো যে শরীয়ত কর্তৃক কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা না
থাকলে সদা-সর্বদা দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব ও উত্তম।

এখন আমরা আযানের পরে দরুদ ও সালাম পাঠ করার বৈধতা নিয়ে আলোচনা করবো।
পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর প্রতি গভীর ভাবে দৃষ্টিপাত করলে এই কথা অকপটে স্বীকার করতেই হবে যে,আযানের পরে দরুদ ও সালাম পাঠ করা শুধুমাত্র বৈধই নয় বরং সুন্নাতে সাহাবা।
যার প্রমান নিম্মে প্রদান করা
হলো

দলীল নং- ০৭: ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ
ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺎﺹ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﺫﺍ ﺳﻤﻌﺘﻢ
ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﻓﻘﻮﻟﻮﺍ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ . ﺛﻢ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻲ
ﺍﻟﺦ –
অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার
নবুয়াতী জবানে ইরশাদ করেন-
‘যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে তখন তোমরা তাই বলো যা মুয়াজ্জিন বলবে।
অতঃপর ( যখন আযান শেষ হবে)
তোমরা আমি নবীর প্রতি (দো’আ করার পূর্বে) দরুদ ও সালমা পাঠ করো।

প্রিয় পাঠক মহল উপরিউক্ত আলোচনা থেকে কতই না সুন্দর ভাবে প্রমানিত হলো যে আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব এবং পরে পাঠ করা সুন্নাত।
কেউ যদি সুন্নাত নয় বরং কোন মুস্তাহাবকে ও অস্বীকার করে অথবা হারাম- নাজায়েজ বলে
তাহলে সে কাফির হিসেবে বিবেচিত হবে। কেননা কোন হালাল বস্তুকে হারাম বলা কুফুরী।

আপত্তিঃ দরুদ ও সালাম বিরোধীগণ বলতে চায় প্রচলিত নিয়মে আযানের পূর্বে ও পরে
সালাত ও সালাম পাঠ করা নবী, সাহাবী এবং তাবেয়ী গনের যুগে ছিলো না, তাই ইহা
করা বিদআত।

জবাবঃ নবী, সাহাবী এবং তাবেয়ী গনের যুগে অনেক কিছুই ছিল না যা বর্তমানে বিরোধীগণএকাগ্রচিত্তে পালন করছে।
যেমনঃ মসজিদে টাইলস, এসি, পাখা, পাচঁ কল্লী টুপি, কোরআন শরীফে হরকত, আরবী ব্যাকরণ ইত্যাদি ব্যবহার করা।
নিজের বেলায় জায়েজ আর নবীর ক্ষেত্রে বেদআত?
এ আবার কেমন বিচার?
নাকি রাসূল দুশমনীরই প্রমান?
অথচ কুরআনুল কারীমে আল্লাহ
তায়ালা ইরশাদ করেছেন ﻣﻦ
ﺟﺎﺀﺑﺎﻟﺤﺴﻨﺔ ﻓﻠﻪ ﻋﺸﺮ ﺍﻣﺜﺎﻟﻬﺎ .
অর্থাৎ
কেউ যদি কোন ভাল কাজের প্রচলন করে তাহলে তাঁর জন্য রয়েছে দশগুন প্রতিদান।
শুধু তাই নয় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন ﻣﻦ
ﺳﻦ ﻓﻰ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺳﻨﺔ ﺣﺴﻨﺔ ﻓﻠﻪ ﺍﺟﺮﻫﺎ ﻭﺍﺟﺮ
ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺑﻬﺎ . –
অর্থাৎ কেউ যদি ইসলামের মধ্যে
(শরীয়ত সমর্থিত)কোন নতুন পদ্ধতি
( নেক কাজের) প্রচলন করে তাহলে
সে (প্রচলনকারী) সাওয়াব পাবে
এবং যে তাঁর প্রচলনকৃত বিষয়ের অনুসরণ করবে সে ও অনুরূপ সাওয়াবের অংশীদার হবে।
(সুবহানাল্লাহ)

প্রিয় পাঠক মন্ডলী,
ফায়সালা আপনারাই করুন যে কাজ
(দরুদ ও সালাম) আল্লাহ তাঁর ফেরেস্তাগণকে নিয়ে সদা-
সর্বদা করেন এমনকি যারা ঈমানদার তাদেরকে ও করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।
সেটা কী ভাল নাকি মন্দ?
অবশ্যই তাহা কিছুতেই মন্দ হতে পারে না।
আসুন আমরা সকলে দয়াময়
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের
কুদরতী দরবারে প্রার্থনা করি
তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর
হাবীবের প্রতি বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করার মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি
এবং পরকালীন মুক্তি অর্জন করার মত তাওফিক দান করেন।

আমিন!
বেহুরমাতি সায়্যিদুল
মুরসালীন।

সুন্নী ভিডিও

পীর সাকিব শামি (মাঃজিঃআঃ)র

ভিডিও ওয়াজ

📁📁📁📁📁
🎬🎬🎬🎬🎬
⬇⬇⬇⬇⬇


ডাউনলোড লিঙ্ক

না”তে রসূল صلى الله عليه وسلم

আসসালামু আলাইকুম
আজ পবিত্র মিরাজুন্নবী صلى الله عليه وسلم উপলক্ষে একটি না’তে রসুল صلى الله عليه وسلم
শেয়ার করলাম
অপেরা মিনি দিয়ে
নিচের লিঙ্ক থেকে ডাউনলোড করে নিন
এবং
শেয়ার করতে ভুলবেন না

ডাউনলোড

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ:)

#প্রশ্নঃ অনেক বাতেল ফেরকার অজ্ঞ মৌলবীরা বলে থাকে,
ঈদে মীলাদুন্নাবী (দ) উপলক্ষে জশনে জুলুস, মিলাদ মাহফিল, খানা পিনা, দান ছদকা ইত্যাদির মাধ্যমে আনন্দ উত্সব পালনের কোন বিধান শরীয়তে নেই।
এবং ঈদে মিলাদুন্নাবী (দঃ) বেদআত বলে আল্লাহর পক্ষ থেকে এত বড় নেয়ামতকে নিজেরাই বঞ্চিত থাকে অপরকেও বঞ্চিত করতে চাই।
পবিত্র কোরআনের আলোকে ঈদে মীলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপনের বৈধতার উপর আলোচনা জন্য অনুরুধ রইলো।
image

image

image

=============================
# উত্তরঃ রবিউল মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেলাদত শরীফ ও শুভাগমনকে কেন্দ্র করে
জশনে জুলুছ, আলোচনা, সেমিনার, খানাপিনা. সদকাহ খায়রাত, দরুদ্ধ,সালাম, দোয়া মোনাজাতসহ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমের ঘটনাবলী ও নূরানী আদর্শ আলোচনা করাকে ঈদে মীলাদুন্না (দঃ) বলা হয়।
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে নিংসন্দেহে একে মুস্তাহাব, কোরআন ও হাদিস সমর্থিত পূণ্যময় ইবাদত।
সলফে সালেহীন ও বর্জুগানে দ্বীনের সুন্নাত ও উত্তম আমল।
এ ব্যাপারে প্রতিযুগে বিশ্ববরেণ্য ইমামগণ আরবী উর্দু ফার্সী ভাষায় নির্ভরযোগ্য কিতাব রচনা করেছেন।
এখানে নবী বিদ্বেষীদ ভন্ড়ামী নিরসনে ঈদে মিলাদুন্নাবী (দঃ) উদযাপনের বৈধতার উপর পবিত্র কোরআনের কিছু প্রমাণাদি উল্লেখ করা হলঃ
মানুষ যখন কোন নিয়ামত প্রাপ্ত হয় তখন আনন্দ উৎসব করা যেমন তার স্বভাবজাত কাজ তেমনি আল্লাহর নিদের্শও তাই।
যেমন পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে-
“হে হাবীব! আপনি (বিশ্ববাসীকে) বলুন আল্লাহর অনুগ্রহ ও তারই দয়া স্মরণ করে সেটার উপর তারা যেন অবশ্যই আনন্দ প্রকাশ করে, তা তাদের সঞ্চয়কৃত সমস্ত ধন সম্পদ অপেক্ষা অধিক শ্রেয়”। [সূরাঃ ইউনুস, আয়াতঃ ৫৮]
উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লাম জালালউদ্দীন সূয়ূতী রহঃ আদ দুররুল মনসুর তফসীর গ্রন্হে উল্লেখ করেছেন- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ এ আয়াতের তফসীরে বরেন এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ বলতে ইলমে দ্বীনকে বুঝানো হয়েছে আর রহমত দ্বারা প্রিয় মাহবুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন হে হাবীব আমি তো আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত রূপেই প্রেরণ করেছি।
ইমাম আলুসী রুহুল মাআনী ১০ খন্ড়ের ১৪১ পৃষ্টায়, ইমান আবূ সাউদ তার তাফসীর গ্রন্হে আর ইমাম রাজী তাফসীর কবির গ্রন্হে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন- “তাদেরকে আল্লাহর দিবসসমূহ স্মরন করিয়ে দাও নিশ্চয় এ গুলোর মধ্যে নিদর্শনানি রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্ষশীশ, কৃতজ্ঞ বান্দাদের জন্য” [সূরা ইব্রাহীমঃ ৫]
উপরোক্ত আয়াতে করিমায় বিশেষ বিশেষ আল্লাহর নেয়ামত ও ঘটনাবলী অবতীর্ণের দিবসগুলোকে আইয়্যামিল্লাহ তথা আল্লাহর বিশেষ দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং ওই বিশেষ দিবসগুলোকে বিশেষভাবে স্মরণ করার জন্য আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এ পৃথীবীতে আল্লাহর প্রিয় মাহবুবের শুভাগমের দিবসের চেয়ে সর্বোত্তম বিশেষ পূণ্যময় দিবস আর কোনটি হতে পারে?
যেমন আলহাবী লিল ফতোয়ায় ইমাম জালাল উদ্দীন সূয়ূতী রহঃ উল্লেখ করেছেন- “আই নবীয়্যি আ জামু মিন বুরুজি হাজান নবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,”
অর্থাতঃ এ মহান রহমতের নবী হুজুর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীর বুকে আগমন করার চেয়ে অন্য কোন নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? অর্থাত্ কখনো হতে পারেনা।
হুজুর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুভাগম আল্লাহর সর্বোত্তম নেয়ামত।
ওই মহান নেয়ামতকে শ্রদ্ধ্রার সাথে স্মরণ করার জন্য ঈদে মীলাদুন্নাবী দঃ এর আয়োজন। প্রিয়নবীর শুভাগমনের মাস, দিন ও মুহুর্তকে স্মরণ করা ইসলামী শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এটা সলফে সালেহীন ও বুযুর্গানে দ্বীনের প্রচলিত নীতি, বিশ্ববরণ্য ফোকাহায়ে কেরামের দৃষ্টিতে এটা মুস্তাহাব ও অনেক মঙ্গলময় সওয়াবজনক ইবাদত এবং পবিত্র কোরআনের অসংখ্যা আয়াতের বাস্তব আমল।
সর্বোপরি সুন্নাতে মালাইকা ও সুন্নাতে এলাহি। তাই এটাকে ভক্তিভরে শ্রদ্ধার সাথে জাঁকজমকে উদযাপন করা ঈমানী জজবা ও প্রিয় নবীর প্রতি ভক্তি- শ্রদ্ধা নিবেদনের বহিঃপ্রকাশ।
[আলহাবী লিল ফতোয়া কৃতঃ ইমাম জালাল উদ্দীন সূয়ূতী রাহঃ এবং তাফসীরে কবীর কৃতঃ ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রাহঃ]

আল্লামা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আল ক্বাদেরী (মাঃজিঃআঃ)
প্রধান ফিকহঃ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলিয়া।
সংগ্রহেঃ মাসিক তরজুমান
শেয়ার করতে ভূলবেন না।
ফেইসবুকে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন